এক শতক আগে মাত্র ৫ সেন্ট দামের হট ডগ বিক্রির মাধ্যমে নিউইয়র্কের কনি আইল্যান্ডে চালু হয় নাথান’স ফেমাস। সেই হট ডগ স্ট্যান্ড খুলতে ৩০০ ডলার ঋণ নিয়েছিলেন নাথান হ্যান্ডওয়েকার। পরবর্তী সময়ে সম্প্রসারিত সেই ব্যবসা ৪৫ কোটি ডলারের নগদ চুক্তিতে কিনে নিয়েছে স্মিথফিল্ড ফুডস।
চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে অংশীদারত্ব বেশ পুরনো। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় নাথান’সের পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির অধিকার পায় স্মিথফিল্ড। এখন শেয়ারপ্রতি ১০২ ডলার দরে পুরো কোম্পানি অধিগ্রহণ করছে স্মিথফিল্ড ফুডস।
প্রায় প্রতিটি মার্কিন খাদ্য প্রস্তুতকারক কোম্পানির মতোই বড় ধরনের মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে নাথান’স। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তাদের ব্র্যান্ডেড পণ্যের বিক্রি বাবদ খরচ সর্বশেষ অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের আগের বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া পাউন্ড প্রতি হট ডগের গড় খরচ বেড়েছে ২০ শতাংশ।
১৯১৬ সালে কনি আইল্যান্ডে প্রথমবার হট ডগ স্ট্যান্ড খোলেন নাথান হ্যান্ডওয়েকার। পরবর্তী বছরগুলোয় নিউইয়র্কে আরো কয়েকটি আউটলেট খোলা হয়। ১৯৮৭ সালে ব্যবসা বিক্রি করে দেয় হ্যান্ডওয়েকার পরিবার। এর পর থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি সম্প্রসারণ করে আসছে কোম্পানিটি।
মার্কিন খাদ্য ও সংস্কৃতিতে নাথান’সের বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। কনি আইল্যান্ডের আদি শাখায় প্রতি বছর ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় হট ডগ খাওয়ার বিখ্যাত প্রতিযোগিতা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশগ্রহণকারীরা এ উপলক্ষে একত্র হন। ১০ মিনিটে কে সবচেয়ে বেশি হট ডগ খেতে পারেন সে প্রতিযোগিতায় নামেন তারা।
গত বছর ৭০ দশমিক ৫টি হট ডগ ও বান খেয়ে প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন যুক্তরাষ্ট্রের জো চেস্টনাট। শেষ ১৯টি ইভেন্টের মধ্যে ১৭টিই জিতেছেন তিনি এবং ২০২১ সালে ৭৬টি হট ডগ ও বান খেয়ে রেকর্ড গড়েন। ২০২৫ সালের আয়োজনটি নাথান’সের ১০৩তম প্রতিযোগিতা হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।
হট ডগ খাওয়ার এ ইভেন্ট ক্রীড়াভিত্তিক টিভি চ্যানেল ইএসপিএনে সম্প্রচার হয়ে আসছে। কনি আইল্যান্ডের এ ইভেন্টে ৩০ হাজারের মতো দর্শক অংশ নেন। স্মিথফিল্ড জানিয়েছে, আয়োজনটি ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
সর্বশেষ অর্থবছরে নাথান’স ফেমাস প্রায় ১৫ কোটি ডলার আয় করেছে। এতে মুনাফার অংক ছিল ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। স্মিথফিল্ডের অধিগ্রহণ চলতি বছরের প্রথমার্ধে সম্পন্ন হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। —খবর এপি